Subscribe Us

###আমি দেখি কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর || শক্তি চট্টোপাধ্যায়|| উচ্চমাধ্যমিক বাংলা

 আমি দেখি, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ঃ- পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ  মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সংক্ষিপ সিলেবাসে পাঠ্য কবিতা আমি দেখি থেকে তোমরা খুঁজে চলেছো- আমি দেখি কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর 2022, আমি দেখি কবিতার বিষয়বস্তু, আমি দেখি কবিতার নামকরণের সার্থকতা,আমি দেখি কবিতার সারাংশ, আমি দেখি কবিতা pdf, আমি দেখি কবিতার MCQ , আমি দেখি কবিতার SAQ , আমি দেখি কবিতার MCQ & SAQ , আমি দেখি mcq , দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা আমি দেখি কবিতার প্রশ্ন উত্তর , আমি দেখি কবিতার স্তবক সংখ্যা ইত্যাদি। তাই  তোমাদের সমস্ত কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করলাম আজকের এই পোস্টে।

■ সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তরগুলি আলোচনা করা হলো। আশা করি এই সমস্ত প্রশ্নোত্তর পড়লেই উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার্থীরা কমন পাবে। এছাড়াও যদি তোমাদের কোনো জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে পারো। 


বিষয় আমি দেখি 
বোর্ড WBCHSE
MCQ20 টি
SAQ10 টি
বড় প্রশ্ন 6 টি


--------------------------------------------------------------------

 আমি দেখি কবিতা শক্তি  চট্টোপাধ্যায়||কবিতার সারাংশ 

----------------------------------------------------------------------


 কবি সত্তরের দশকের রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছেন । দীর্ঘদিন নগর জীবনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন ।শহরে দীর্ঘদিন জীবন অতিবাহিত করার কারণে তিনি লক্ষ করেন যে ,শহরের অসুখ নির্বিচারে সবুজ ধ্বংস করে চলেছে। মানুষ ক্রমশ হৃদয়হীন হয়ে প্রকৃতি তথা পরিবেশকে ধ্বংস করছে। যা দেখে খুবই ব্যথিত হয়েছেন ।তাই কবি সকলের কাছে আবেদন করেছেন গাছ তুলে এনে বাগানে বসানোর ।কারণ সবুজই একমাত্র শহরের অসুখ ও শরীরের অসুখকে সারাতে পারে ।আমরা জানি বড় মানুষ হতে গেলে প্রাকৃতিক ভালোবাসা ,স্নেহ ও আশ্রয় ভীষণভাবে দরকার ।আবার অসুস্থ মানুষের আরোগ্যের জন্যও সবুজ দরকার ।তাই কবি মানুষের জীবন তথা পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য বারবার আবেদন জানিয়েছেন অরণ্য ধ্বংস করে ইট কাঠ কংক্রিট এর শহর নয় । বরং ফিরিয়ে দাও সেই আদিম অরণ্য । অরন্যের সাহচর্যে মানুষ পুনরায় হয়ে উঠবে সহনশীল ধীর-স্থির। তাই কবি চান গাছ দিয়ে সবুজ বাগান গড়ে উঠুক।  চারিদিক সবুজে ভরে উঠুক। 


উচ্চমাধ্যমিক কবিতা আমি দেখি শক্তি চট্টোপাধ্যায় থেকে MCQ





1➤ আমি দেখি কবিতাটি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে






2➤ আমি দেখি কবিতায় কয়টি স্তবক আছে?






3➤ "আমার দরকার শুধু"- কি দরকার?






4➤ গাছের কোন অংশ টুকু শরীরে দরকার?






5➤ "গাছ তুলে আনো"- কে গাছ তুলে আনতে বলেছেন?






6➤ 'আমি দেখি'- কবিতায় কবি গাছ তুলে এনে কোথায় বসাতে বলেছেন?






7➤ গাছের সবুজ টুকু শরীরে দরকার কেন?






8➤ ' আমি দেখি'- কবিতায় কবি বহুদিন কোথায় যাননি?






9➤ শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল কী খায়?






10➤ কবির দেহ কী চায়?






11➤ কবির চোখ কী চায়?






12➤ কবি বহুদিন জঙ্গলে না গিয়ে কোথায় আছেন






13➤ " সবুজের অনটন ঘটে"- কোথায়?






14➤ কে হাঁ করে কেবল সবুজ খায়?






15➤ 'শহরের অসুখ'- কী?





 

----------------------------------------------------

আমি দেখি কবিতা শক্তি  চট্টোপাধ্যায়||SAQ      

--------------------------------------------------------------


1- "আমার দরকার শুধু গাছ দেখা"- কবির গাছ দেখা দরকার কেন?


 উত্তর - গাছের সবুজ শরীরে প্রয়োজন ।তাই শুধুই গাছ দেখে যাওয়া কবির দরকার ।


2- "শরীরে দরকার"- শরীরে কীসের দরকার?


 উত্তর- শক্তি চট্টোপাধ্যায় "আমি দেখি" কবিতায়  বলেছেন শরীরে গাছের সবুজ টুকু অত্যন্ত দরকার।


3-" সবুজের অনটন ঘটে"- কীভাবে সবুজের অনটন ঘটে? 


 উত্তর- শহরে ক্রমশ জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে ভোগ্যপণ্য নির্মাণে যান্ত্রিক সভ্যতা প্রকৃতির উপাদান গাছকে ছেদন করে বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করছে। ফলে শহরে সবুজের অনটন ঘটে।


4-" গাছ তুলে আনো"- কবি কেন এ কথা বলেছেন?


উত্তর- শক্তি চট্টোপাধ্যায় "আমি দেখি" কবিতায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে উদ্ধৃত আবেদনটি করেছেন ।কারণ যেভাবে আধুনিকতার নামে সভ্যতা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে ,তাতে ধরা খুব শীঘ্রই অরণ্যহীন হয়ে পড়বে। তাই তার এই আবেদন।


5- "আমি দেখি"- কবি কী দেখতে চান ?


উত্তর- আমি দেখি কবিতার কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বাগানে গাছ বসিয়ে গাছের সবুজ দেখতে চান।


6-"দেহ চায় সবুজ বাগান"- কথাটির তাৎপর্য কী?


 উত্তর -শহরাঞ্চলের প্রাণহীন রুক্ষ শুষ্ক এবং মৃত্যুর পান্ডুরতা থেকে সবুজ একমাত্র শহরকে বাঁচিয়ে তুলতে পারে। তাই শহরের দেহের জন্য শহরের সকলের শরীরের সুস্থতার জন্য সবুজের একান্ত প্রয়োজন ।



7-"আমি দেখি"- কবিতায় কবির চোখ ও দেহ কী কামনা করেছে?


 উত্তর- "আমি দেখি"- কবিতায় কবির 'চোখ' প্রাণের প্রতীকরূপে সবুজ এবং 'দেহ' সবুজ বাগান কামনা করেছে ।


8-"চোখ তো সবুজ চায়"- কেন ?


উত্তর- সবুজ ধ্বংস করে ক্রমশ কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে তুলছে শহর ।তাই ইট-কাঠ-পাথরের পরিবেশে ক্লান্ত দুটি চোখ যেন সবুজের সন্ধান করে যায়।


9- কবি শহরের অসুখ বলতে কী বুঝিয়েছেন?


 উত্তর -"আমি দেখি" কবিতায় কবির চোখে তার শহর রোগগ্রস্ত। আশির দশকের রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক- সামাজিক অবক্ষয়ে তার শহর বিধ্বস্ত ।ফলে সেখানে সবুজের টানাটানি ,প্রাণবায়ুর  অভাবে মানবসত্তা যেন মৃতপ্রায়। কবি এরূপ অবস্থাকেই শহরের অসুখ বলেছেন।


 10-"বহুদিন জঙ্গলে যায়নি"- জঙ্গলে না যাওয়ার ফলে কী হয়েছে?


 উত্তর -কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বহুদিন জঙ্গলে না যাওয়ার ফলে শহরে থাকতে থাকতে তার হৃদয় ও মন বিষন্ন , ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে।


উচ্চমাধ্যমিক বাংলা আমি দেখি কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর 


১.'শহরের অসুখ হাঁ করে কেবল সবুজ খায় '-শহরের অসুখ কী ? এ অসুখ নিরাময়ের জন্য কবি কী করতে বলেছেন ? 

Ans : শহরের অসুখ : শক্তি চট্টোপাধ্যায় 'আমি দেখি 'কবিতায় শহরের একটি প্রধান আসুখের কথা  বলেছেন।  শহরাঞ্চলের স্বার্থান্বেষী মানুষেরা লোভের কারণে ক্রমশ সবুজ ধংস করে অট্টালিকা নির্মাণ করেই চলেছে।  তাদের কাছে প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো মূল্য নেই। তারা শুধু অর্থের চাহিদা পূরণের জন্য আগ্রাসী মনোভাবের হয়ে পরে।  ফলে নির্বিচারে অরণ্য ধংস করে অর্থ রোজগার করে।  ফলে শহরাঞ্চলে সবুজের অভাব দেখা যায়। শহরের মানুষ এরূপ মানসিকতাকে কবি 'শহরের অসুখ 'বলেছেন। 



তাৎপর্য : শহরাঞ্চলের জনবসতি ঘন হয় কলকারখানা দ্বারা পরিবেষ্টিত শহর বিশুদ্ধ বাতাস গ্রহণের অবকাশ পায় না ,বড় বড় অট্টালিকাতে আকাশ ক্ষীণ হয়ে পরে। ফলে গ্রামাঞ্চলের মতো শহরে গাছপালা দেখা যায় না। যতটুকু সবুজ তথা গাছ শহরে বেঁচে থাকে ,সেটুকুও একদিন দূষণের কারণে ধংস হয়ে যায়। শহরের স্বার্থপর মানুষ কৃত্রিম সুখের আশায় ক্রমশ সবুজ ধংস করে চলেছে। কবি এরূপ মনোভাবকে শহরের অসুখ বলেছেন।  এই অসুখের প্রভাবে যউদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল মানুষ ধংসের মুখোমুখি হবে। মানুষ শূন্য হয়ে শহরও ধংস স্তুপে পরিণত হবে। অর্থাৎ সবুজ ধংস করে মানুষ নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছে।

 


অসুখ নিরাময়ের কারণ : প্রকৃতিপ্রেমী কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় কবিতার শুরুতেই লিখেছেন- 'গাছগুলো তুলে আনো ,বাগানে বসাও /আমার দরকার গাছ দেখা /গাছ দেখে যাওয়া। ' অর্থাৎ কবি শহরের অসুখ নিরাময়ের জন্য বৃক্ষ রোপনের কথা বলেছেন। কেননা তিনি জানেন গাছের সবুজটুকু শরীরের জন্য ভীষণ দরকার। রোগ মুক্তির জন্য ,মানসিকক্লান্তি উপশমের জন্য সবুজ একান্ত প্রয়োজন। কবি উপলব্ধি করেছিলেন যে সবুজের সানিধ্যে  মানুষের মন সমৃদ্ধ হয় ও মানসিক প্রশান্তি পায়। কবি কর্মব্যস্ত জীবনে বহুদিন জঙ্গলে যেতে পারেননি ,শহরেই আছেন। শহর থেকে কবি লক্ষ্য করেছেন শহরের মানুষ হৃদয়হীন হয়েপড়েছে। তারা উন্নতির নাম নির্বিচারে সবুজ ধংস করে চলেছে। তাই কবি শহরকে পুনরায় বাচিয়ে তোলার জন্য গাছ তুলে বাগানে বসানোর প্রার্থনা করেছেন।  এতে যেমন শহরের পরিবেশ পুনরায় বিশুদ্ধ হবে ,তেমনি মানুষের রোগ ব্যাধি ক্লান্তির হাত থেকে মুক্তি পাবে। 




২.'আমার দরকার শুধু গাছ দেখা '-বক্তা কে ? তার গাছ দেখা দরকার কেন ?



Ans :   বক্তা :আলোচ্য  উক্তিটির বক্তা হলেন প্রাকৃতিপ্রেমী  কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগে ও সবুজের টানে কবি এরূপ উক্তি করেছেন। 



গাছ দেখার প্রয়োজনীয়তা : কবি শহরাঞ্চলের ইট ,বালি ,পাথর ও লোহার নির্মিত ঘৃহে রূদ্ধ থেকে ক্লান্ত হয়ে পরেছিলেন। এমনকি শহরের কোনো নির্জন এলাকায় গিয়ে বিশুদ্ধ বায়ু সেবন করবেন তারও অবকাশ ছিল না। এছাড়াও শহরের মাটি ,বায়ু ,জল প্রভৃতি দূষিত হয়ে পড়েছিল। এরূপ দূষিত  পরিবেশে থাকতে থাকতে কবি ক্লান্ত হয়ে পরেছিলেন। শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে কবি অসুস্থ হয়ে কবি সবুজের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন।  এই অনুভব থেকেই কবি লিখেছেন - 'আমার দরকার শুধু গাছ  দেখা /গাছ দেখে যাওয়া /গাছের সবুজটুকু শরীরের দরকার /আরোগ্যের জন্যও সবুজের ভীষণ দরকার' অর্থাৎ কবি বহুদিন ধরে জঙ্গলে যেতে পারেন নি। তাই সবুজের সানিধ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই কবি সবুজের সংস্পর্শ পাওয়ার জন্য গাছ তুলে এনে বাগানে বসানোর প্রার্থনা জানিয়েছেন। তিনি দেখতে চান শহরে পুনরায় গাছ ফিরে এসেছে। এই গাছ শরীর তথা মনকে রোগ মুক্ত করে। 



তাৎপর্য : প্রকৃতির কোলে মানুষ বড়ো হয় ও জীবন বাঁচিয়ে রাখে। কিন্তু কৃত্রিম সুখের আশায় মানুষ জননীরূপী প্রকৃতিকে হত্যা করে নিজের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে চায়। মা ছাড়া শিশু যেমন খাদ্যাভাবে মারা যেতে পারে ,তেমনি প্রকৃতি ছাড়া মানব সত্যতা ধংস হয়ে যেতে পারে। এই সত্যতা উপলব্ধি করেছিলেন দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। কবি লোভী মানুষের মনকে পরিবর্তন করার জন্য ও সবুজের সংস্পর্শে আনার জন্য প্রার্থনা করেছেন - 'তাই বলি গাছ তুলে আনো /বাগানে বসাও আমি দেখি। ' অর্থাৎ পুনরায় শহরাঞ্চলে অরণ্যকে ফিরিয়ে এনে শহরের জীবনকে বাঁচাতে চেয়েছেন।  গাছই একমাত্র উপাদান যা শহরের অসুখ দূর করতে পারে। তাদের শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতেপারে। সেই জন্যই কবি আলোচ্য 'আমি দেখি 'কবিতায় বার বার আদেশের শুরে গাছ তুলে আনার কথা বলেছেন। 





৩.'আরোগ্যের জন্য ঐ সবুজের ভীষণ দরকার '- আরোগ্যের  সঙ্গে সবুজের সম্পর্ক উক্ত কবিতা অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।


 

Ans : আরোগ্য কামনা : কবি শক্তি চট্ট্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর সত্তর -আশির দশকের রাজনৈতিক -অর্থনৈতিক-সামাজিক 'গভীর অসুখের সময় '-এর কবি। অবক্ষয় ,অরাজকতা,নিরাশা ,শূন্যতা ছাড়াও পশ্চিমি সভ্যতার বস্তুতন্ত্রের উদ্দাম ঢেউ আছড়ে পড়েছিল আমাদের সংস্কৃতির উপর।  সমকালীন রাজনীতি ও সমাজ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ছিল তীব্র অনাস্থা ,হৃদয়ে গভীর নৈরাশ্য। নগরকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতা -বিষন্নতার ক্রনিক ব্যাধির সঞ্চারে কবিও যেন এই মুমুর্ষ নগরীর একজন। কবি ' ব্যাথার মাঝে ঘুমিয়ে' না পরে জেগে ওঠেন,দায়ভার গ্রহণ করেন নাগরিক জীবনের রোগমুক্তির। মানবের অমানবিক কৃতকর্মের শাপমোচনে তিনি তৎপর হন। বলা যায় ,এই  প্রায়শ্চিত্তের উপায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ 'আমি দেখি' কবিতায়। 



আরোগ্যের সঙ্গে সবুজের সম্পর্ক : আরোগ্যকামী কবি ,নগরে বৃক্ষসৃজনের ডাক দেন। যদিও শেষমেশ এ ডাক কবির ব্যক্তিগত থাকে না। 'গাছ তুলে আনো, বাগানে বসাও ' - ব্যক্তির গন্ডি পেরিয়ে এ বাগান অনেকের অনুভূতির সঙ্গে সমীকৃত হয়ে যায়। কবি জানেন,নগরের ধোঁয়া ধূলিধুসরিত পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষের সবুজ স্নিগ্ধতা একান্ত প্রয়োজন। মানুষের শত্রু হয়ে ওঠা হৃদয়হীন নগর প্রতিনিয়ত মানবিকতাকে হত্যা করে। রক্তের রঙে রাঙানো ,হৃদয়হীন,প্রাণহীন পাণ্ডর পৃথিবীর একমাত্র আরোগ্যের পথ নির্দেশিকা 'সবুজের অভিযান '।  মৃতপ্রায় নাগরিক জীবন সবুজের হৃদয় স্পর্শে নির্মল হয়ে উঠবে ,নতুন রূপে প্রকাশিত হবে। আশাবাদী কবি এই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। সবুজের মানুষের একান্ত আপন ,তাদের একমাত্র প্রয়াজন।  




৪.'চোখ তো সবুজ চায় !/দেহ চায় সবুজ বাগান '- চোখ কেন সবুজ চাইবে ? দেহের সঙ্গে সবুজ বাগানের সম্পর্ক কী ?


 

Ans : চোখের 'সবুজ' চাওয়া :  প্রখ্যাত আধুনিক কবি  শক্তি চট্ট্যোপাধ্যায়ের লেখা 'অঙ্গুরী  তোর হিরণ্য জল ' কাব্যগ্রন্থ থেকে  নেওয়া 'আমি দেখি' কবিতাতে কবির গভীর পরিবেশ ভাবনা রূপান্তরিত হয়েছে।  কবি আরণ্যক প্রকৃতিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন ,এই প্রকৃতি কবির হৃদয়ে এক অনাবিল প্রশান্তি এনে দেয়। মানুষ এখন সভ্য হয়েছে। অর্থনৈতিক সচ্ছলতা বাড়ার কারণে গড়ে উঠেছে নিত্যনতুন অট্টালিকা ,ফলস্বরূপ দেখা দিয়েছে 'বন কেটে বসত' আর অরণ্য নিধন।  কবি চেয়েছেন সুস্থভাবে বাঁচার জন্য মানুষ বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে সচতেন হয়ে উঠুক। আধুনিক সভ্যতা থেকে সবুজের সমারোহ আর প্রকৃতির নিবিড় স্পর্শ হারিয়ে যাচ্ছে ।  সবুজের স্নিগ্ধতার ছোঁয়া শরীর ও মনের নির্মলতার ,কোমলতার পরশ এনে দেয়।   তাই কবি মুমুর্ষ নগরীকে  পুনর্জীবিত করতে সবুজের সান্নিধ্য চেয়েছেন। 


 

  *দেহের সঙ্গে সবুজ বাগানের  সম্পর্ক :  নাগরিক জীবনের ক্লান্তিতে কবির মন বেদনাবেধুর । কবি জানেন শহরের প্রাণহীনতা ,মৃত্যুর পাণ্ডরতা থেকে সবুজেই একমাত্র বাঁচিয়ে রাখতে পারে। তিনি শহরের প্রান্তে প্রান্তে ডাক পাঠিয়েছেন চিরসবুজের। তিনি জানিয়েছেন সবুজ তাঁর দেহ ,শিরা-উপশিরা ,ধমনী হৃদয় ,মস্তিষ্কে উজ্জ্বল উপস্থিতি নিয়ে জেগে উঠুক।  সবুজের স্পর্শে রোগাক্রান্ত সভ্য মানবজাতি আরোগ্য লাভ করবে। প্রকৃতিপ্রেমী কবি আরণ্যক প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য আকুল  হয়ে উঠেছে। তাই তিনি সবুজের স্পর্শে উদগ্রিব হয়ে উঠেছেন ,গাছ এনে বাগানে বসাতে বলেছেন। কেবল কবির জন্য নয় ;সমস্ত শহরের জন্য ,মানুষের সার্বিক সুস্থতার জন্য সবুজের একান্ত প্রয়োজন।  কবি ভেবেছেন ,সবুজের আগমন বাগানকে নতুনরূপে সাজিয়ে তুলবে ,তেমনি মানবদেহে সবুজের স্পর্শ দূষিত-কুলষিতকে নির্মূল করবে।

 



'গাছ আনো ,বাগানে বসাও।/আমি দেখি।।'-গাছের প্রতি কবির এই আগ্রহ বা আকর্ষণ শৌখিন ,না কি একান্ত প্রয়োজনীয় তা যুক্তি-সহ আলোচনা করো।



Ans :  গাছের প্রতি কবির আগ্রহ : কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি দেখি 'কিবিতাতে গাছের প্রতি কবির ঐকান্তিক আগ্রহ বা তীব্র আকর্ষণ প্রকাশিত হয়েছে। নাগরিক কবি হলেও তিনি বার বার ছুটে গেছেন জঙ্গলে। জঙ্গল তাকে উন্মাদ করে ,উদাস করে ,আবার উদ্দাম স্বেচ্ছাচারী করে তোলে। কখনও  চাইবাসা ,কখনও বেথুয়াডহারী ,কখনও তিনি উত্তরবঙ্গে হারিয়ে যান। সবুজের সান্নিধ্য যেন কবির 'প্রাণের আরাম ,আত্মার শান্তি'। গাছ,জঙ্গল ,সবুজ কবি অত্যন্ত ভালোবাসেন। একে শৌখিনতা বলে লঘু করা যায় না।

 


সবুজ গাছের প্রয়োজনীয়তা : এই অকৃত্রিম জঙ্গলপ্রেমী ,গাছপালা ,সবুজের কাঙাল কবি দীর্ঘকাল ধরে শহরে বন্দি হয়ে আছেন। তাঁর মন ভালো নেই। শরীর ও মনের আরোগ্যের জন্য তাঁর গাছ দেখা ,সবুজের সান্নিধ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।শহরে ক্লোরোফিলের অভাব। শহরের অসুখ গ্রাস করেছে সবুজ। তবু বাঁচতে হবে কবিকে ,বাঁচাতে হবে শহরের মানুষদের। তাই কবি বিকল্পের কথা ভেবেছেন,যদিও প্রয়োজনের তুলনায় তা অতি সামান্য। শুভবোধসম্পন্ন মানুষের কাছে কবি আবেদন করেছেন শহরে গাছ আনতে ,বাগান করতে। সবুজ গাছে ভরা বাগান শুধুই কবি দেখবেন না,সকলে দেখবে। 'আমি' এক্ষেত্রে শুধু কবি নন ,প্রত্যেক 'আমি' আসলে প্রত্যেক মানুষ। কবি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে গাছের কাজে নিজের ও সকলের  সুস্থতা কামনা করেছেন। 





'আমি দেখি' কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো। 



Ans : ভূমিকা : 'তোমার শাসাতে আমি বাদে এগিয়ে আসে না আর কেউ '-এমন কাব্যিক স্পর্ধা ,পদ্যের আদেশনামা শক্তি চট্ট্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সম্ভব। এত দীপ্ত ,এত ঋজু ,এত স্পষ্টবক্তা বাংলা কবিতায় বিরল। 'আমি দেখি'কবিতাটিও 'সহজ কথা'সহজে বলার বাচনিক ভঙ্গিতে ভাস্বর ,উজ্জ্বল।



প্রেক্ষাপট : বিগত শতাব্দীর আশির দশকে নাগরিক জীবনের 'অদ্ভূত আঁধার 'ক্রমশ গ্রাস করছিল মনুষ্যত্বকে ,মানুষকে। নগরকেন্দ্রিক বিচ্ছিন্নতা ও বিষন্নতার ক্রনিক ব্যাধির সঞ্চারে কবিও যেন হয়ে পড়েছিলেন ব্যাধিগ্রস্থ। নগর যেন প্রাণহীন ধূসরতায় পাংশুটে ,মুমুর্ষ। 'ভালো থাকাই কঠিন ,জালহান বেঁচে থাকাই কঠিন ,' তখন বনসৃজনের আয়োজনের নিতান্তই প্রয়োজন। তাই তো কবি বলেন - 'গাছের সবুজটুকু শরীরে দরকার /আরোগ্যের জন্য ঐ সবুজের ভীষণ দরকার।' 



প্রকৃতির প্রতি আসক্তি : কবির অন্তরের আরণ্যক সত্তা বেদনায় ভারাক্রান্ত ,কারণ তিনি বনগন্ধী প্রকৃতির নিবিড় সংস্রব থেকে বিচ্ছিন্ন বহুকাল। যা তাঁর হৃদয়ের জন্য ,প্রাণসত্তার জন্য একান্ত প্রয়োজন। কংক্রিট শহরে রোগাক্রান্ত পৃথিবীর সবুজহীনতা কবিকে করে ব্যথিত।  কবি ব্যাথার মাঝেই জেগে ওঠেন ,প্রায় মরণাপন্ন শহুরে মানুষকেই যেন বলে ওঠেন এক আদশের ভঙ্গিতে- 'গাছগুলো তুলে আনো। বাগানে বসাও'।চোখ ,দেহের সবুজের প্রয়োজন ঘুচে যাক তাতে।  



কবির অপেক্ষা : কবি বলেন 'আমি দেখি ',তাঁর লক্ষ আমরা। বক্তব্য একবচনের ,আকাঙ্ক্ষা বহুবচনের। যে সবুজাভাব তাঁর বাগানে প্রসারিত হবে তাই-ই যেন নগরের সকল মানুষের অন্তরে ও বাইরে বিস্তার লাভ করবে। কবি জানেন 'আমি'র এই 'সবুজের অভিযান' অচিরেই 'আমরা'তে পর্যবসিত হবে। আর কবি যাকে 'গাছগুলো তুলে আনো' বলে আদেশ দেন সেও নাগরিক জীবনের ধূসর ক্লেদাক্ততায় ক্লান্ত সেই আমাদেরই একজন। সবুজের আমন্ত্রণে ও আগমনে প্রাণে আবার বসন্ত আসবে ,কবি যেন তারই অপেক্ষায়। 



উপসংহার : কবির এই ভাবনায় সমগ্র কবিতাটিকে ধ্বনিত হয়েছে। 'তার দেখা ' প্রকাশিত হয়েছে প্রতিটি পঙ্ক্তিতে। এই কারণেই বলা যায় ,কবিতাটির নামকরণ সর্বাঙ্গসুন্দর ও সার্থক হয়েছে। 




আমি দেখি কবিতার PDF

File Details 

File format:- Pdf

File Quality:- High.

File Size :- 76.0 K
 
Page - 2

Location- Google Drive.

CLICK HERE 👉  DOWNLOAD PDF 



বি:-দ্রঃ-আমাদের প্রশ্ন ও উত্তরগুলি এতক্ষণ ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ।তোমরা যদি নিয়মিত আমাদের সাইটটিকে ফলো করো তবে আমরা কাজ করার অনুপ্রেরণা পাব । তোমাদের সমর্থনই আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

ধ্বনিতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উওর  পেতে CLICK HERE ( ভাষাবিজ্ঞান )

বাংলা সাজেশন পেতে CLICK HERE 

( ভারতবর্ষ)

উচ্চমাধ্যমিকের বাংলা কুইজ চর্চা করতে CLICK HERE (Mock TEST)


Post a Comment

0 Comments