Subscribe Us

বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য ।।একাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান ।।পঞ্চম অধ্যায়

  পড়াশোনা একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান, চতুর্থ অধ্যায়- 'শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ'- অধ্যায় থেকে  গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্ন আলোচনা করা হলো- বৃদ্ধি ও বিকাশ বলতে কী বোঝো? বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা লক্ষ্য গুলি কী কী ? এই লক্ষ্য পূরণে কী কী কার্যাবলী গ্রহণ করা হয়েছে ?প্রশ্ন দুটির PDF দেওয়া হলো। তোমরা PDF ডাউনলোড করে প্রস্তুতি নেবে।

*এই অধ্যায়ের রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর পড়ার পর সময় ধরে লেখার চর্চা করবে। এতে যেমন তোমাদের লেখার স্পিড বাড়বে ,তেমনি ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো হবে।                                                                                                                                                                                                                                                                        ১. শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ বলতে কী  বোঝো?বৃদ্ধি ও  বিকাশের মধ্যে পার্থক্য লেখো।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                       উত্তর                


বৃদ্ধি ও বিকাশের সংজ্ঞা- জীবনের মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন করা। পরিবর্তনশীল পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজনের জন্য যে দুটি উপাদান প্রয়োজন, তা হল- বৃদ্ধি ও বিকাশ। শিক্ষাবিদ আর্নল্ড জোনস- এর মতে, দেহের উচ্চতা ও ওজন বেড়ে যাওয়াকে বৃদ্ধি বলে। যেমন শিশুর হাত, পা, শরীরের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি।


■ বিকাশ হল প্রার্থীর মধ্যে ক্রম পরিবর্তন, যা শুধুমাত্র শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কর্ম সম্পাদনের ক্ষমতা ও গুণগত পরিবর্তন ঘটে। যেমন- কাজ করার ক্ষমতা, দৈহিক ক্ষমতা প্রভৃতি।


বৃদ্ধি ও বিকাশের মধ্যে পার্থক্যঃ- বৃদ্ধি ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ও একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তাসত্ত্বেও উভয়ের মধ্যে বেশকিছু পার্থক্য লক্ষ করা যায়। যেমন-


সংজ্ঞাগত পার্থক্যঃ- আকার ও আয়তনের পরিবর্তনকে বৃদ্ধি বলে। কিন্তু আকার আয়তন বৃদ্ধির সঙ্গে গুণগত, প্রক্রিয়াগত আভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকে বিকাশ বলে ।


বৈশিষ্ট্যগতঃ- বৃদ্ধি হল কারণ, তবে বিকাশ হল ফল।


প্রসারঃ- বৃদ্ধির ধারণা কেবলমাত্র শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার বিকাশের ধারনা দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, প্রাক্ষোভিক প্রভৃতির বিকাশ ঘটে।


অনুশীলনঃ- বৃদ্ধি স্বতঃস্ফূর্তভাবে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঘটে, যতই ব্যায়াম বা অনুশীলন করা হোক না কেন, বৃদ্ধি ঘটে না। বিকাশ সামগ্রিক প্রক্রিয়া, ব্যাক্তির সক্রিয়তা ও অনুশীলনের ওপর বিকাশ নির্ভর করে।


সময়ঃ- ব্যক্তির বৃদ্ধি একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ঘটে,  তারপর বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।কিন্তু বিকাশ সারা জীবন ধরে অর্থাৎ মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকে।


 পরিমাপঃ- ব্যাক্তির বৃদ্ধিকে পরিমাপ করা যায়।যেমন- উচ্চতা, দৈর্ঘ্য কত তা মাপা যায় ।তবে ব্যক্তির বিকাশকে পরিমাপ করা যায় না। শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণের সাপেক্ষে জানা যায়।


শিক্ষাগতঃ-  শিক্ষা ব্যক্তির পরিমাণকে প্রভাবিত করলেও তা সত্য কিনা সে ব্যাপারে মনোবিদদের মতে মতভেদ আছে। কিন্তু শিক্ষার প্রভাবে ব্যাক্তির পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে


 প্রভাবগতঃ- ব্যক্তির বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব সেভাবে লক্ষ করা যায় না। কিন্তু পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ফলে বিকাশ ঘটে।



প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য গুলি কী  কী ? এই লক্ষ্যগুলি কিভাবে পূরণ করা যায়? 

                                                                                                                                       ৪+৪=৮


প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য:- প্রাক-প্রথমিক লক্ষ্য হল শিশুকে প্রাথমিক প্রথাগত শিক্ষার  উপযোগী করে তোলা। এই লক্ষ্যেই কিন্ডারগার্ডেন, নার্সারি, প্রাক বুনিয়াদি, মন্তেশ্বরী প্রভৃতি বিদ্যালয় সদর্থক ভূমিকা পালন করে। এই সময় শিশুদের মধ্যে যেসব চাহিদা দেখা যায় তার উপর ভিত্তি করে এই লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।যেমনঃ -


অভ্যাস গঠন- প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হল শিশুদের মধ্যে সু অভ্যাস গঠন করা।  যেমন- পরিষ্কার পোশাক পরিধান, দাঁত পরিষ্কার, বাথরুমে যাওয়া, পড়তে বসা প্রভৃতি কাজের অভ্যাস তৈরি করা।


সামাজিক বিকাশ- প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হল শিশুর মধ্যে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। সমাজে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে হলে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ প্রয়োজন।


মানসিক বিকাশ- এই শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটানোর জন্য নানা রকম খেলাধুলা শেখানো, কবিতা আবৃত্তি করা, গল্প শোনানো, ছবি আঁকা শেখানো প্রভৃতি ব্যবস্থা করা হয়।


প্রাক্ষোভিক বিকাশ- প্রাক-প্রথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত প্রক্ষোভগুলিকে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিকশিত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। প্রক্ষোভের বিকাশ যথাযথ হলে তা শিশুর ব্যক্তিত্ব সুদৃঢ় করে।


অন্যান্য লক্ষ্য -  এই লক্ষ্যগুলি ছাড়াও আরো বিভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে এই শিক্ষার। যেমন- নান্দনিক বিকাশ ঘটানো, শিশুর বিভিন্ন কৌতূহলের বিকাশ ঘটানো, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো প্রভৃতি।


প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য পূরণ:- প্রাক প্রথমিক শিক্ষার লক্ষ্য পূরণের জন্য যেসব বিষয় এই স্তরের পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলি হল-


দৈহিক কার্যাবলী- শিশুদের দৈহিক বিকাশের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও নাচ ও গানের ব্যবস্থা, বাগান তৈরি, পরিচর্যা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়।


স্বাস্থ্য সচেতনতা- শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন অঙ্গের পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন- নক পরিষ্কার, দাঁত মাজা ,সময় মতো  মলমূত্র ত্যাগ প্রভৃতির উপর জোর দেওয়া হয়।


বিদ্যালয়ের পরিবেশ সংক্রান্ত কার্যাবলী- শিশুদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাঠ্যক্রমে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ পরিস্কার রাখার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার, বিদ্যালয়ের মাঠ,বাগান পরিষ্কার রাখা প্রভৃতি।


ভাষাবোধ সম্পর্কিত কার্যাবলী- শিশুদের মধ্যে ভাষা বোধের বিকাশ ঘটানোর জন্য অক্ষর পরিচয়, লিখতে এবং পড়তে শেখানোর সঙ্গে সঙ্গে গল্প বলা, গল্প শোনা ,অভিনয় করা প্রভৃতি কার্যাবলী গ্রহণ করা হয়েছে ।


সৃজনশীল কার্যাবলী- শিশুদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোর জন্য পাঠ্যক্রমে ছবি আঁকা, মাটির কাজ, কাগজের কাজ, বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা প্রভৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


অন্যান্য কার্যাবলী আরো বিভিন্ন কার্যাবলী গ্রহণ করা হয় প্রাক-প্রথমিক শিক্ষাপ্তিষ্ঠানগুলোতে। যেমন- শিশুর জীবন বিকাশের জন্য মুখে মুখে নামতা, অংক শেখানো হয়। আবার সৌন্দর্যবোধের বিকাশের জন্য বিভিন্ন গাছপালা, পশুপাখি, আকাশ, মাটি প্রভৃতির পরিচয় দেওয়া হয়। 


আরো পড়ো.............


একাদশ শ্রেণীর রাষ্ট্রবিজ্ঞান ষষ্ঠ অধ্যায়ঃ প্রশ্ন ও উত্তর 


একাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান ,প্রথম অধ্যায়ঃ MCQ & SAQ

Post a Comment

1 Comments

  1. Great post | You write very well, I learned many things from your blog which were unknown

    ReplyDelete