অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখন কাকে বলে? অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখনের শিক্ষাগত প্রয়োগ লেখো

 পড়াশোনা:- দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় শিখন কৌশল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য রচনাধর্মী প্রশ্ন- অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখন কাকে বলে? অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখনের শিক্ষাগত প্রয়োগ লেখো " দেওয়া হলো। এই অধ্যায়ঃ থেকে MCQ ও SAQ প্রশ্ন যেমন থাকবে তেমনি একটি রচনাধর্মী প্রশ্ন থাকবে। উত্তরটি pff ফাইল আকারে তোমাদের দেওয়া হলো। যা তোমাদের প্রস্তুতি  নিতে অনেক সহায়তা করবে।

■ এছাড়াও 2023 সালের ফাইনাল পরীক্ষার জন্য প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যারা এ বছর দ্বাদশ শ্রেণীতে উঠেছো তারা অবশ্যই এই প্রশ্ন-উত্তরের পিডিএফ ডাউনলোড করে প্রস্তুতি নেবে।।


বিষয়  শিক্ষাবিজ্ঞান 
অধ্যায়ঃ দ্বিতীয়, শিখন কৌশল   
শ্রেণী দ্বাদশ 
রচনাধর্মীএকটি
মান 8


প্রশ্নঃ- অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিক্ষণ কাকে বলে? অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখণের  শিক্ষাগত প্রয়োগ লেখো।

                                উত্তর 

অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিক্ষণঃ- সমগ্রতাবাদীরা বলেছেন দুটি মানসিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রাণীর শিক্ষণ সম্ভব হয়।যথা- (i) পৃথকীকরণ (ii) সামান্যীকরণ। এই দুটি মানুষিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা যে কোনো শিখনে প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলি সরিয়ে দিয়ে পৃথকীকরণ বৈশিষ্ট্য অবলম্বন করেছেন। তারপর এর প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলি নিয়ে সামান্যধর্মী সূত্র গঠন করেছেন। এই প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্যগুলি সামান্যীকরণের ফলে প্রাণী সমস্যার সামগ্রিক রোগটি প্রত্যক্ষণ করতে পারে। এর ফলে প্রাণী সমস্যার সমাধান করে ও তার শিক্ষণ সম্ভব হয়,একে অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখন বলে


শিক্ষাগত প্রয়োগঃ- শিক্ষাক্ষেত্রে সমগ্রতবাদীদের গুরুত্ব অপরিসীম । কারণ বর্তমানে শ্রেণীকক্ষে তাদের 'গেস্টাল্ট' তত্ত্বটিকে বিভিন্নভাবে প্রয়োগ করা হয়। যেমন- 

সমগ্রতার তত্ত্বঃ- শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক আলোচ্য বিষয়বস্তুকে প্রথমে সামগ্রিকভাবে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন । তারপর সেই সমগ্র বিষয়বস্তুকে খন্ডে খন্ডে ভাগ করে বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করবেন। এই নীতির উপর ভিত্তি করে শিক্ষাক্ষেত্রে সমগ্র থেকে অংশের দিকে অগ্রসর হওয়ার নীতি গৃহীত হয়েছে।


শিক্ষার্থীর সক্রিয়তাঃ- অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখনের আর একটি দিক হলো শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা। বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সক্রিয়তা নীতিকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ কারণে শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় করে তোলার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেন। যাতে শিক্ষার্থীর মনে অন্তর্দৃষ্টি  জাগানো সম্ভব হয়।

অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখন- গেস্টাল্ট মতবাদ অনুযায়ী শিখন সম্পূর্ণ হয় অন্তর্দৃষ্টির মাধ্যমে। সুতরাং শিক্ষককে শ্রেণীকক্ষে কোনো বিষয়বস্তু এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যাতে শিক্ষার্থী সমস্যামূলক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করতে পারে।

সংগঠিত বিধানঃ- শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক শিক্ষিকারা যে বিষয়ে শিক্ষা দেন সে বিষয়গুলির মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টিকে উপস্থাপন করতে হবে। তবেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তর্দৃষ্টি জাগানো সম্ভব।

লক্ষ্য সম্পর্কে ধারনাঃ-- সমগ্রতাবাদীদের মতে শিক্ষার লক্ষ্য সম্পর্কে শিক্ষককে সচেতন হতে হবে। লক্ষ্য অনুযায়ী তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তাই শিক্ষার্থীদের জীবন বিকাশে সহায়তা করতে শিক্ষনীয় বিষয়বস্তু সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।

পৃথকীকরণ ও সামান্যীকরণঃ- অন্তর্দৃষ্টিমূলক শিখন তত্ত্ব অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রথমে পৃথকীকরণ ও পরে সামান্যধর্মী সূত্র গঠনের মাধ্যমে শিখন সম্পন্ন করবে। তাই শিক্ষককে সচেতন থাকতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই সামান্যধর্মী সূত্র গঠন করতে পারে।

যান্ত্রিক প্রচেষ্টা নিরসনঃ- এই শিখন কৌশল অনুযায়ী শিক্ষকের কর্তব্য হবে শিক্ষার্থীকে মুখস্থ করার প্রবণতা থেকে বিরত করে পাঠ্য বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থ উপলব্ধিতে সাহায্য করা।

ধারাবাহিক উপস্থাপনঃ- শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাতে সহজেই অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হয় তার জন্য শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীর কাছে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে

সময় ও শ্রম হ্রাসঃ- থনডাইকের প্রচেষ্টা ও ভুলের পদ্ধতিতে যতটা সময় ও শ্রম লাগে গেস্টাল্ট পদ্ধতিতে তা লাগে না। ফলে শিক্ষার্থীদের সময় ও শ্রম সাশ্রয় হয়।

আত্ম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাঃ- শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের গেস্টাল্ট তত্ত্ব অনুসরণ করালে আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। কারণ এর ফলে শিক্ষার্থীর শুভবুদ্ধির বিকাশ ঘটে এবং তার নৈতিক ও জ্ঞানের বিকাশ হয়।

File Details:-
File name- Education 
File Size:-203.8 kb
Format:- Pdf
Location:- Google drive 

CLICK HERE  👇👇👇👇




Post a Comment

0 Comments