Subscribe Us

একাদশ শ্রেণির শিক্ষা বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর

পড়াশোনা:-  একাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান, দ্বিতীয় অধ্যায়- "শিক্ষার তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান " - থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর দেওয়া হলো। একাদশ শ্রেণীর  পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে প্রশ্ন উত্তর  সাজানো হয়েছে। তবে প্রতি বছরের জন্য এই প্রশ্ন উত্তরগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবছরে পরীক্ষার্থীরা খুজে চলেছে - একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় প্রশ্ন উত্তর  /  একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায়mcq  /    একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় saq   / একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান    দ্বিতীয় অধ্যায় mcq & saq একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় ছোটো প্রশ্ন উত্তর / একাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় দ্বিতীয় অধ্যায় বড় প্রশ্ন উত্তর / শিক্ষার তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান mcq /  শিক্ষার তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান বড় প্রশ্ন উত্তর প্রভৃতি।  



■ পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে এবছর সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর পরীক্ষা নেওয়ার কথা। তাই  অধ্যায়টি ভালোভাবে পড়ার পর আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রশ্ন উত্তর গুলি পড়লে অবশ্যই ভালো ফলাফল করবে। তোমাদের কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারো। ধন্যবাদ লেখাটি ধৈর্যসহকারে পড়ার জন্য। 


একাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাছাই করা MCQ 


1. বংশগতি ও পরিবেশের গুণফল হল-
A.ব্যক্তি জীবন
B. সমাজ
C. ব্যক্তিসত্ত্বা  
D.সংস্কৃতি 
উত্তরঃ- C. ব্যক্তিসত্ত্বা 

2.আধুনিক শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক হলেন শিক্ষার্থীর- 
A.নির্দেশক
B. সহায়ক
C. বন্ধু স্বরূপ 
D.সবকটি 
উত্তরঃ-D. সবকটি 

3.শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সম্পর্কে বিবেচ্য বিষয়গুলি হল- 
A.আগ্রহ 
B.চাহিদা 
C.মানসিক ক্ষমতা
D. সবকটি 
উত্তরঃ-D. সবকটি 

4.একজন সুশিক্ষকের যে ধরনের মন থাকা দরকার তা হলো- 
A.সেবাধর্মী
B মনোধর্মী
C. শাসন ধর্মী
D. শোষণধর্মী
উত্তরঃA. সেবাধর্মী 

5.আধুনিক শিক্ষকের কাজ হল- 

A.মাধ্যমের
B. সহায়কের 
C.সংযোগরক্ষাকারীর 
D.উপরের সব কটি
 উত্তরঃD. উপরের সবকটি 
6.বংশগতির ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো- 
A.জননকোষ
B. জিন 
C.ক্রোমোজোম 
D.জাইগোট 
উত্তরঃB. জিন

7.মানুষের প্রতিটি দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা হল- 
A.23 টি 
B.23 জোড়া 
C.13 জোড়া
D. 13 টি 
উত্তরঃ-B. 23 জোড়া 

8.পাঠক্রম কথাটির অর্থ হলো -
A.শিক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ 
B.লেখাপড়ার জন্য বই 
C.পড়ার জন্য নির্দিষ্ট বিষয় 
D.শিক্ষাদানের প্রক্রিয়া 
উত্তরঃ A.শিক্ষার লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ

9.প্রাকৃতিক পরিবেশ এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি- 
A.শিল্পকলা 
B.জীবজন্তু 
C.গাছপালা
 D.খাদ্য ও পানীয় 
উত্তরঃ-A. শিল্পকলা 

10.কোন ল্যাটিন শব্দ থেকে ক্যারিকুলাম শব্দটি এসেছে- 
A.Currier
B.Curiere
C.Currere
D.Curriones 
উত্তরঃA. Curriere

11.শিক্ষকের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো- 
A.সমাজ সেবা করা 
B জনসচেতনতা মূলক কাজ করা 
C.গণতান্ত্রিক আদর্শকে বাস্তবায়িত করা 
D.শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা রক্ষা করা 
উত্তরঃC. গণতান্ত্রিক আদর্শকে বাস্তবায়িত করা 

12.এনসিসি এবং ব্রতচারী চর্চা কোন ধরনের বিকাশে সাহায্য করে? 
A.দৈহিক বিকাশ 
B.সামাজিক বিকাশ 
C নৈতিক বিকাশ 
D.আধ্যাত্মিক বিকাশ
 উত্তরঃ-A. দৈহিক বিকাশ 

13.নিচের কোনটি সামাজিক পরিবেশের উদাহরণ- 
A.বিদ্যালয় 
B.পরিবেশ
C.সংস্কৃতি
D. সবকটি 
উত্তরঃD. সবকটি 

14."একজন আদর্শ শিক্ষক হতে গেলে প্রথমে একজন ভালো ছাত্র হতে হবে"- এই কথাটি কে বলেছেন ?
A.জন অ্যাডামস
B. রুশো
C. মার্টিন 
D.ফ্রয়েবেল 
উত্তরঃC. মার্টিন 

15.আধুনিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে কে স্থান পেয়েছে?
A. পাঠক্রম 
B.শিক্ষক
C. শিক্ষার্থী
D. বিদ্যালয় 
উত্তরঃ- C .শিক্ষার্থী 

16.পাঠক্রম হল অভিজ্ঞতার -
A.গুণফল 
B.ভাগফল 
C.যোগফল 
D.অন্তরফল 
উত্তরঃ-C. যোগফল 

17.নিচের কোনটি সৃজনমূলক কাজ- 
A.গান শোনা 
B.ছবি আঁকা 
C.কবিতা আবৃতি শোনা 
D.মহাপুরুষদের ছবি দেখা 
উত্তরঃ-B. ছবি আঁকা 

18.বুনিয়াদি শিক্ষা পাঠ্যক্রমের প্রবর্তক কে ?
A.বিবেকানন্দ
B. রামমোহন 
C.মহাত্মা গান্ধী 
D.বিদ্যাসাগর 
উত্তরঃC. মহাত্মা গান্ধী 

19.বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে উদযাপন করা হয়? 
A.5 জানুয়ারি 
B.5 এপ্রিল 
C.5 মে 
D.5 জুন 
উত্তরঃ- 5 জুন 

20.শিক্ষার চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো- 
A.গ্রন্থ,শিক্ষার্থী, খাদ্য ও পরিবেশ 
B.গ্রন্থ, শিক্ষার্থী, বিদ্যালয় ও পাঠক্রম 
C.শিক্ষার্থী, সমাজ, পরিবার ও পাঠক্রম 
D.শিক্ষার্থী, শিক্ষক,পাঠ্যক্রম ও পরিবেশ 
উত্তরঃ-D. শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পাঠক্রম ও পরিবেশ 

21.শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম উপাদান কোনটি- 
A.পরিবার 
B.পরিবেশ 
C.সমাজ
D. বিদ্যালয় 
উত্তরঃA. পরিবার 

22.'কুরিয়ার'- শব্দের অর্থ কী?
A.ঘুমানোর জায়গা 
B.বিশ্রামের জায়গা 
C.বেড়ানোর জায়গা 
D দৌড়ানোর পথ
উত্তরঃD. দৌড়ানোর পথ 

23.শিক্ষার বস্তুগত উপাদান কোনটি ?
A.শিক্ষক 
B.পাঠক্রম 
C প্রকৃতি 
D.শিক্ষা 
উত্তরঃ- B.পাঠক্রম 

24.পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর হয় -
A.বহিঃপাঠক্রমিক কাজে 
B.সহপাঠক্রমিক কাজে 
C.পাঠক্রমিক কাজে 
D.এদের কোনোটিই নয় 
উত্তরঃB. সহপাঠক্রমিক কাজে 

25.বিদ্যালয়ে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর মূল্যায়নের জন্য দরকার -A.রেকর্ড কার্ড অনুসরণ 
B.ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার প্রদান 
C.শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ দান 
D.কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলা প্রণয়ন 
উত্তরঃA. রেকর্ড কার্ড অনুসরণ 

26.কোন দুটি উপাদানের মিথস্ক্রিয়ার ফল হল শিক্ষার্থী -
A.পরিবেশ ও বিদ্যালয় 
B.পরিবেশ ও বংশগতি 
C.বংশগতি ও জিন 
D.প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সামাজিক পরিবেশ 
উত্তরঃA. পরিবেশ ও বংশগতি 

27.নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় ?
A নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা 
B.দূরাগত শিক্ষা 
C.পরিবেশ ও শিক্ষা 
D.কোনোটিই নয় 
উত্তরঃA. নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা 

28.আলোচনা ও বিতর্ক কোন ধরনের সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী? 
A.আত্মপ্রকাশ মুলক 
B.সৃজনমূলক 
C.শরীরচর্চা মুলক 
D.সামাজিক 
উত্তরঃB. সৃজনমূলক 

29."শিক্ষার্থী যা কিছু শেখে তাই হল পাঠক্রম"- বক্তা কে ?
A.পেস্তালৎসী 
B.রুশো
C. ফ্রয়েবেল
D  অ্যারিস্টটল 
উত্তরঃC. ফ্রয়েবেল 

30.শিক্ষাক্ষেত্রে দাতা হিসেবে বিবেচিত হন- 
A.অভিভাবক 
B.শিক্ষক 
C.শিক্ষার্থী 
D.শিক্ষাকর্মী 
উত্তরঃB.শিক্ষক


একাদশ শ্রেণীর শিক্ষা বিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ SAQ


1.পাঠক্রম রচনার যেকোনো একটি নীতি উল্লেখ করো ?


উত্তর:-  পাঠক্রম রচনা একটি নীতি হল পাঠক্রম এর বিষয়গুলি সমাজ বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হবে 


2.শিক্ষার উপাদান কয়টি ও কি কি 


উত্তরঃ- শিক্ষার উপাদান মূলত চারটি ।যথা- (এক) শিক্ষার্থী (দুই) শিক্ষক (তিন) পাঠক্রম (চার) পরিবেশ ।


3.একজন সুশিক্ষক এর যেকোনো একটি গুণের উল্লেখ করো ।


উত্তরঃ- একজন সুশিক্ষক এর গুণ হলো- শিক্ষক হবেন চরিত্রবান এবং দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ।


4.সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী কাকে বলে ?


উত্তরঃ- বিদ্যালয়ে যেসকল কার্যাবলী ছাত্র-ছাত্রীদের বৌদ্ধিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জীবন বিকাশের অন্যান্য দিককেও সার্থক করে তোলে, তখন সেগুলিকে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী বলে। 


5.পাঠ্যসূচি বলতে কী  বোঝো? 


 উত্তরঃ-  পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত নির্বাচিত অংশকে পাঠ্যসূচি  বলা হয় । ওই অংশ মূল্যায়নের ক্ষেত্র হিসেবে সীমিত রাখা হয় ।


6. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী কয় প্রকার ও কী  কী?


 উত্তরঃ- সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।যথা-1. শরীরচর্চা মূলক কার্যাবলী 2.মানসিক কার্যাবলী 3. সামাজিক কার্যাবলী ।


7.বংশধারা কাকে বলে ?


উত্তরঃ- যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পিতা-মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জিনের মাধ্যমে সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যায় বা বর্তায় তাকে বংশধারা বলে ।


8.পরিবেশ বলতে কী বোঝায় ?


উত্তরঃ-  পরিবেশ বলতে বোঝায় সেইসব পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রভাব যা শিশুর আচার-আচরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তার সর্বাঙ্গীণ বিকাশে সাহায্য করে।


9. আধুনিক পাঠক্রমের দুটি নীতি উল্লেখ করো।


 উত্তরঃ- আধুনিক পাঠক্রমের দুটি নীতি হল- (এক) বিষয় নির্বাচন সংক্রান্ত নীতি (দুই) পাঠক্রমের উপাদান বিন্যাসের নীতি ।



10.  শিক্ষার দ্বিমেরু প্রক্রিয়ার দুটি মেরু কী কী?


উত্তরঃ- শিক্ষার দ্বিমেরু প্রক্রিয়াঃ দুটি মেরু হলো- (1)শিক্ষার্থী এবং (2) শিক্ষক।


11. পাঠক্রম বলতে কী বোঝায়?


 উত্তরঃ- শিক্ষার্থীর জীবন বিকাশের উপযোগী তথ্য, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও কার্যাবলী সুপরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ও সমন্বিত রূপই হল পাঠক্রম ।


12. আধুনিক পাঠক্রমের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।


 উত্তরঃ- আধুনিক পাঠক্রমের বৈশিষ্ট্য হল - আধুনিক পাঠ্যক্রম শিখন ও শিক্ষণ প্রক্রিয়ার মধ্যে সঠিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করে ।


13.সমন্বয়ী পাঠক্রম বলতে কী বোঝো?


 উত্তরঃ- যে বিশেষ প্রকার পাঠক্রমের শিক্ষণীয় বিষয়সমূহকে ছোট ছোট অংশে বিভাজিত না করে অখন্ড ভাবে উপস্থাপন করা হয়, তাকে সমন্বয়ী পাঠ্যক্রম বলে ।


14. পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচির মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।


উত্তরঃ- পাঠক্রম আকারে অনেক বড় হয়, আর পাঠ্যসূচী আকারে ছোট হয় ।


15. সৃজনশীল সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী কাকে বলে ?


উত্তরঃ- বিদ্যালয়ে সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর মধ্যে যেগুলি ছাত্র-ছাত্রীদের সৃজনশীল গুণের বিকাশে সহায়তা করে তাদের সৃজনশীল সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী বলে ।


16.কয়েকটি শরীরচর্চা মূলক সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর উদাহরণ দাও ।


উত্তরঃ- শরীরচর্চা মূলক সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর উদাহরণ হল-দৌড়,পিটি, লংজাম্প, হাইজাম্প,যোগব্যায়াম, ফুটবল, হকি, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, খোখো প্রভৃতি ।

একাদশ শ্রেণীর শিক্ষাবিজ্ঞান দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্ন উত্তর

১. আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

অথবা,   শিক্ষকের দায়িত্ব  কার্যাবলী সংক্ষেপে আলোচনা করো। 

Ans :  আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা : আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্বাভনার বিকাশসাধন করে তাকে সমাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব শিক্ষকের ওপর ওপর ন্যস্ত হয়েছে।  তাই শিক্ষককে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এখানে কয়েকটি দায়িত্ব বা কাজ সংক্ষেপে আলোচনা করা হল :-

ব্যক্তিসত্তার সর্বাঙ্গীন বিকাশে সহায়তা করা : শিক্ষার্থীর দৈহিক , মানসিক , প্রাক্ষোভিক , বৌদ্ধিক , সামাজিক , জৈবিক প্রভৃতি দিকের সুষ্ঠ বিকাশের সহায়তা করা হলো শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এই জন্য যথোপযুক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা ও সেই কর্মসূচির বাস্তবায়ন করাও শিক্ষকের দায়িত্ব। 

বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করা : আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল শিক্ষার্থীকে জ্ঞান অর্জনের সহায়তা করা। শিক্ষার্থী যাতে আপন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান আরোহন করতে পারে , তারজন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও রূপায়ণের ব্যবস্থা শিক্ষককেই করতে হয়। 

বিদ্যালয়ে উপযুক্ত পরিবেশ রচনা করা : বিদ্যালয় হলো একটি সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ।  তাই শিক্ষকের কাজ হলো বিদ্যালয়ে একটি আদর্শ সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহযোগিতা , সহমর্মিতা , সহানুভূতি , বন্ধুপ্রীতি , পরোপকারিতা প্রভৃতি সামাজিক গুণাবলীর বিকাশ সাধন করা।  

পাঠক্রমিক কার্যাবলী পরিচালনা করা : আধুনিক শিক্ষায় পাঠক্রম প্রণয়নকারীরা শিক্ষার্থীদের শ্রেণী , বয়স ইত্যাদি অনুযায়ী পাঠক্রম নির্ধারণ করেন। পাঠক্রম অনুযায়ী পুস্তক রচনা করা হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা পাঠক্রম অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনে সহায়তা করেন। পাঠক্রমের জটিল বিষয়গুলিকে শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন উপকরণের সাহায্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ করে তুলে ধরেন। 
 
পাঠক্রম প্রণয়নে সহায়তা করা : আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষকের একটি অতিগুরুত্বপূর্ণ কাজ হল পাঠক্রম প্রনয়ন করা।  কিছুসংখ্যক শিক্ষক অত্যন্ত দায়িত্ব সহকারে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপযোগী পাঠক্রম প্রনয়ন করে থাকেন।  কিছুসংখ্যক আবার পাঠক্রম অনুযায়ী পাঠ্যপুস্তকও রচনা করে থাকেন। 

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করা : আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষকের অন্য একটি কাজ হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন কুসংস্কার ও মানসিক দুর্বলতা দূর করে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। 

আন্তর্জাতিকতাবোধের বিকাশে সহায়তা করা : বর্তমান যুগ বিশ্বায়নের যুগ।  প্রতিটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্বমানবতাবোধ এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা দরকার। শিক্ষকরাই এই কাজে অগ্রণীর ভূমিকা পালন করেন।  

মন্তব্য : ওপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় আধুনিক শিক্ষক কেবল শিক্ষাদাতা নন , তিনি শিক্ষার্থীর সহকর্মী , মন্ত্রণাদাতা , তাঁর জীবনদর্শন মূল সহায়ক এবং তার কর্মপ্রচেষ্টার অভিজ্ঞা পথপ্রদর্শক। 



২. একজন আদর্শ শিক্ষকের কী কী গুণাবলি থাকা দরকার তা সংক্ষেপে আলোচনা করো। 


Ans : আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলি : সার্থক শিক্ষার একটি বড়ো উপকরণ হলেন আদর্শ শিক্ষক বা সুশিক্ষক।  আদর্শ শিক্ষক বা সুশিক্ষক হতে গেলে কতকগুলি বিশেষ গুনের অধিকারী হওয়া দরকার।  এখানে আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হল :-

আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা - ১. ব্যক্তিগত গুণাবলি , ২.পেশাগত গুণাবলি এবং ৩.নাগরিক হিসেবে গুণাবলি। 

ব্যক্তিগত গুণাবলি : একজন সুশিক্ষক বা আদর্শ শিক্ষকের যে সকল ব্যক্তিগত গুণাবলি থাকা দরকার , সেগুলি হল :-

 a. সুব্যক্তিত্ব : মানুষ হিসেবে শিক্ষককে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে। মনস্তত্ত্ববিদ ক্যাটেলের মতে , সুব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য হল : উষ্ণ হৃদয়বৃত্তি , বিশ্বস্ততা , সহযোগিতার মনোভাব , হাস্যরসবোধ , বিবেচনা শক্তি ও সংস্কৃতি সম্পন্ন মন। সুশিক্ষকের মধ্যে এই গুণগুলির উপস্থিতি একান্ত কাম্য।  

b. সুবিবেক : সুশিক্ষকের মধ্যে যথেষ্ট বিবেচনা শক্তি থাকা দরকার। শিক্ষক যদি সুবিবেচক হন , তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁর কাছে আসবে এবং তাঁর কাছ থেকে পক্ষপাতহীন আন্তরিক ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ লাভ করবে। 

c. আত্মবিশ্বাস : সুশিক্ষক হিসেবে নিজেকে শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরতে হলে দরকার গভীর আত্মবিশ্বাস।  ছাত্রছাত্রীরা যদি শিক্ষকের ব্যক্তিত্বে বিশ্বাসী না হয় , তাহলে তাঁকে সঠিক ভাবে অনুসরণ করতে এগিয়ে আসবে না। 

d. হাস্যরসবোধ : সুশিক্ষকের একটি বিশিষ্টগুণ হল হাস্যরসবোধ।  হাস্যরসের সাহায্যে অত্যন্ত নিরস বিষয়কেও তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে সরস করে উপস্থাপন করতে পারেন। 
e. দায়িত্ববান : সুশিক্ষক হবেন একজন দায়িত্ববান মানুষ।  সমাজ শিক্ষকের ওপর যে গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছে , তিনি সেই সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকবেন। তিনি তার কাজের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিসত্তা গঠনে উদ্যোগী হবেন।  

পেশাগত গুণাবলি : একজন সুশিক্ষক বা আদর্শ শিক্ষকের যেসকল পেশাগত গুণাবলি থাকা দরকার , সেগুলি হল :

a. পান্ডিত্য : শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন , সে বিষয় সম্পর্কে তাঁর যথেষ্ট জ্ঞান বা পান্ডিত্য থাকা দরকার। 

b. মনোবিদ্যার জ্ঞান : যে-কোনো শিক্ষকের শিশুমনোবিদ্যার জ্ঞান থাকা দরকার। শিশুর বৃদ্ধি , বিকাশ ও সেই সম্পর্কিত সমস্যাবলির সমাধানে শিশুমনোবিদ্যার  জ্ঞান সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 

c. দক্ষতা : কেবল বিষয়বস্তু জানলেই চলবে না , শিশু-মনোবিদ্যা এবং শিক্ষণ কৌশল সম্পর্কে শিক্ষকের ব্যবহারিক দক্ষতা থাকা দরকার। 

d. মূল্যায়ন : শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে কতখানি পারদর্শিতা অর্জন করেছে , তা পরিমাপের জন্য মূল্যায়ন অপরিহার্য।  শিক্ষকের মূল্যায়ন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না-থাকলে , তিনি শিক্ষার্থীকে সঠিক দিশা দিতে পারবেন না।  

e. গবেষণাধর্মী মনোভাব : একজন আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে গবেষণাধর্মী বা পরীক্ষামূলক মনোভাব থাকা বাঞ্ছনীয়। তিনি যে-কোনো বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চালাবেন এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহদান করবেন। 


নাগরিক হিসেবে গুনাবলি : একজন আদর্শ শিক্ষকের যে সকল নাগরিক গুণাবলি থাকা দরকার , তা হল :-

a. সমাজসেবী : সুশিক্ষকের মধ্যে সমাজসেবী মনোভাব থাকা দরকার। শিক্ষক সমাজসেবী হলে , তাঁর ছাত্রছাত্রীরাও সমাজসেবায় উদ্বুদ্ধ হয়। 

b. রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন : রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনও শিক্ষকের একটি গুরুত্বপূর্ণ গুন। শিক্ষকের মধ্যে এই গুনটি থাকলে , শিক্ষার্থীরাও এই গুনটি অর্জনে আগ্রহী হয়। 


মন্তব্য : উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় , একজন সুশিক্ষক না আদর্শ শিক্ষকের মধ্যে ব্যক্তিগত ,পেশাগত এবং নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন গুণাবলি থাকার দরকার হয়। এই গুণাবলির অভাব ঘটলে সু শিক্ষক বা আদর্শ শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠতা পাওয়া যায় না। 



৩.পাঠক্রম এর সংজ্ঞা দাও আধুনিক পাঠক্রমের বৈশিষ্ট্য গুলি লেখ 


পাঠক্রমের সংজ্ঞাঃ- পাঠক্রম বলতে শিক্ষার্থীর বিদ্যালয় অর্জিত সব রকমের অভিজ্ঞতাকে বোঝায়। শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে বা শ্রেণিকক্ষের বাইরে অর্জন করে ।

শিক্ষাবিদ পেইনির বক্তব্যঃ- তার মতে ছাত্র-ছাত্রীদের সার্বিক বিকাশ ও তাদের মধ্যে আচরণের পরিবর্তনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে সকল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং সচেতন ভাবে পরিচালনা করা হয়, তাদের সমন্বিত রূপকেই পাঠ্যক্রম বলে ।

আধুনিক ধারণাঃ- আধুনিক ধারণা অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের স্বার্থে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক- শিক্ষিকার পরিচালনায় যা শেখে বা অর্জন করে, তাকেই পাঠক্রম বলে ।

মনোবিদ ক্রো এন্ড ক্রোর বক্তব্যঃ- পাঠক্রম বলতে, শিক্ষার্থীদের সেই সকল অভিজ্ঞতাগুলিকে বোঝানো হয়, যা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। যা তাদের মানসিক, শারীরিক, প্রাক্ষোভিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দিক থেকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। 

আধুনিক পাঠক্রমের বৈশিষ্ট্যঃ- পাঠক্রম সম্পর্কে আধুনিক ধারণাকে পর্যালোচনা করলে কতকগুলি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এগুলি হল- 

পরিবর্তনশীলতাঃ-আধুনিক পাঠক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল পরিবর্তনশীলতা। মানবসমাজ পরিবর্তনশীল। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পাঠক্রম পরিবর্তন করা হয় ।

বিকাশগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নির্ধারিতঃ- আধুনিক পাঠক্রমের অন্তর্গত বিষয়গুলি শিক্ষার্থীদের বয়স এবং বিকাশগত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয় ।

জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা নির্ধারিতঃ- পাঠক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে দর্শন, মনোবিদ্যা, শিক্ষাতত্ত্ব, সমাজবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। অর্থাৎ আধুনিক পাঠ্যক্রম জ্ঞানী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

সর্বাঙ্গীণ বিকাশ সাধনঃ- আধুনিক পাঠক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ বিকাশসাধন। তাই শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, সামাজিক বিকাশ, চারিত্রিক বিকাশ, আধ্যাত্মিক বিকাশ, প্রাক্ষোভিক বিকাশ, বৌদ্ধিক বিকাশ প্রভৃতির প্রতি লক্ষ্য রেখে বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয় সমূহকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।

তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকের সমন্বয়সাধনঃ- কেবলমাত্র তত্ত্বগত জ্ঞান শিক্ষার্থীর সব ধরনের বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে পারেনা। তাই আধুনিক পাঠক্রমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় দিকের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয় ।

বাস্তব ভিত্তিক আধুনিক পাঠ্যক্রমঃ- ব্যক্তির চাহিদা এবং সমাজের প্রয়োজনের দিকগুলো বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা বাস্তব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করার সুযোগ পায় ।

নীতি ভিত্তিকঃ- আধুনিক পাঠক্রমের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি নীতি ভিত্তিক। শিক্ষার্থীর চাহিদা, সামর্থ্য, প্রবণতা এবং সমাজের প্রয়োজনের দিকের ওপর নির্ভর করে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয়। শুধু এই গুলিই নয় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, মনোবৈজ্ঞানিক যুক্তিকে অনুসরণ করে পাঠক্রম তৈরি করা হয় ।

মন্তব্যঃ-এই সকল বৈশিষ্ট্য আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য গুলি কতখানি সফল হয়েছে, তা পরিমাপের জন্য পাঠক্রমের মূল্যায়ন করা হয়।এছাড়াও শ্রেণিকক্ষের মধ্যে এবং শ্রেণীকক্ষের বাইরে এই পাঠক্রমের বিষয়গুলি বিস্তৃত। 

৪. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী কাকে বলে? সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। 


সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীঃ- যেসকল কার্যাবলী ছাত্র-ছাত্রীদের বৌদ্ধিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের অন্যান্য দিকের বিকাশকেও সফল করে তোলে, তাদের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী বলে ।
অন্যভাবে বলা যেতে পারে যে পাঠ্যক্রমের বাইরে শিক্ষার্থীদের কাজকে সম্প্রসারিত করার জন্য যে সকল প্রয়োজনীয় কার্যাবলীর ব্যবস্থা করা হয়, তাদের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী বলে। যেমন- মহানপুরুষদের জন্মতিথি পালন, বৃক্ষরোপণ স্বাধীনতা দিবস উদযাপন প্রভৃতি ।

সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর বৈশিষ্ট্যঃ- সহ পাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হলো- 

শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশে সহায়তাঃ- সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক, মানসিক, প্রাক্ষোভিক, সামাজিক, নৈতিক প্রভৃতির বিকাশকে ত্বরান্বিত করে ।

কর্মের পরিবর্তনঃ- সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী প্রাত্যহিক বাঁধাধরা শিক্ষার কাছ থেকে ছাত্রছাত্রীকে কিছু সময়ের জন্য হলেও মুক্তি দেয়। এর মাধ্যমে তারা পুনরুজ্জীবন লাভ করে। এককথায় একঘেয়েমি থেকে পরিবর্তন হলো সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলী ।

আগ্রহ সৃষ্টিতে সহায়তাঃ-  সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী সর্বদায় ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের কার্যাবলী ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিভিন্ন ধরনের কাজের প্রতি নতুনভাবে আগ্রহী করে তোলে ।

ব্যক্তি বৈষম্য নীতি নির্ধারণঃ-সহপাঠক্রমি কার্যাবলীতে বৈচিত্র থাকে। শিক্ষার্থীরা আপন ইচ্ছা অনুসারে পছন্দের কাজটিকে বেছে নিতে পারে। তাই বলা যায় এটি মনোবৈজ্ঞানিক এবং ব্যক্তি বৈষম্যের নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয় ।

সৃজনশীলতার বিকাশে সহায়কঃ- ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নানান ধরনের সৃজনশীল গুণ সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করলে ছাত্র-ছাত্রীদের এই সকল গুণাবলী সঠিক ভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়।

চাহিদা পূরণে সহায়কঃ- সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীর মধ্যে নানান ধরনের কাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।শিক্ষার্থীরা নিজেদের চাহিদা মতো কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। ফলে তাদের বিশেষ বিশেষ চাহিদাগুলো পূরণ হয় ।

আনন্দদানে সক্ষমঃ- সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত কাজগুলি শিক্ষার্থীকে সর্বদাই আনন্দ ও তৃপ্তি দান করে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা আনন্দ পাওয়ার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলীতে অংশগ্রহণ করে ।

অন্যান্য বৈশিষ্ট্যঃ- এছাড়াও সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর আরো কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন- গণতান্ত্রিক আদর্শ নির্ভরতা, জাতীয় সংহতি ও আন্তর্জাতিকতার বিকাশের সহায়ক প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় ।

File Details 

Format:- PDF
Size: 426.9 kb
Location:- google drive 
DOWNLOAD:- CLICK HERE DOWNLOAD PDF 



Post a Comment

0 Comments