Subscribe Us

কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর 2023 || উচ্চমাধ্যমিক বাংলা

 পড়াশোনাঃউচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্য কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্প থেকে একটি MCQ , একটি SAQ এবং একটি  রচনাধর্মী প্রশ্ন থাকবে। তোমরা অনেকেই খুঁজে চলেছো- কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর 2023 /  কে বাঁচায় কে বাঁচে প্রশ্ন ও উত্তর  / কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর  / কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র  / কে বাঁচায় কে বাঁচে প্রশ্ন উত্তর pdf download / দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা কে বাঁচায় কে বাঁচে ইত্যাদি। তাই তোমাদের কথা ভেবে আজকে এই কনটেন্ট আপলোড করলাম।


■ পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে এবছর সম্পূর্ণ সিলেবাসের উপর পরীক্ষা নেওয়ার কথা। তাই গত বছর যে সংক্ষিপ্ত  সিলেবাস ঘোষণা করা হয়েছিল, তাতে  বাদ দেওয়া হয়েছিল 'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্পটি। গল্পটি ভালোভাবে পড়ার পর আমাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রশ্ন উত্তর গুলি পড়লে অবশ্যই ভালো ফলাফল করবে। তোমাদের কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারো। ধন্যবাদ লেখাটি ধৈর্যসহকারে পড়ার জন্য। 

কে বাঁচায় কে বাঁচে গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর 2023

ক্রমিক নং আলোচ্য প্রশ্ন 
1." শহরের আদি-অন্তহীন ফুটপাথে সে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়"-
মন্তব্যটির আলোকে 'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্প অবলম্বনে
মৃত্যুঞ্জয় চরিত্র বিশ্লেষণ করো।
2." ওটা পাশবিক স্বার্থপরতা"- কে কাকে কোন প্রসঙ্গে
এই উক্তি করেছেন? উদ্ধৃত অংশের তাৎপর্য লেখো।
3." মৃত্যুঞ্জয়ের সুস্থ শরীরটা অসুস্থ হয়ে গেল"- মৃত্যুঞ্জয় কেন
অসুস্থ হয়ে পড়েছিল ? শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় এর কী
 পরিনতি লক্ষ করা যায়?
4."কারো বুকে নালিশ নেই, কারো মনে প্রতিবাদ নেই"-
কার মধ্যে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল? কোন পরিস্থিতিতে
বক্তা এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিল?
5."মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থা শোচনীয়"- মৃত্যুঞ্জয় কে?
 তার বাড়ির অবস্থা শোচনীয় কেন?

 

1. "শহরের আদি-অন্তহীন ফুটপাতে সে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়"- মন্তব্যটির আলোকে 'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্প অবলম্বনে মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্র বিশ্লেষণ করো।


                              *** উত্তর***


ভূমিকাঃ- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কে বাঁচায় কে বাঁচে' ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয়। তাকে কেন্দ্র করে মন্বন্তর কবলিত বাংলা তথা কলকাতা শহরে একটির পর একটি দৃশ্য প্রকাশিত হয়। মৃত্যুঞ্জয় চাকুরীজীবী মধ্যবর্তী এক যুবক এবং নিরীহ ভালো মানুষও বটে,যে প্রচলিত ও সবচেয়ে পচা ঐতিহ্য আদর্শবাদের কল্পনা তাপস হলেও তার মানসিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিষ্ক্রিয় ছিল না।

পরিচয়ঃ- মৃত্যুঞ্জয় কলকাতা শহরের শরুগলির নিরিবিলি অঞ্চলে বসবাস করে। নয় জনের সংসার তার একার মাইনেতে চলেনা। প্রতিমাসে টাকা ধার করতে হয়। তবুও কেরানীর চাকরী করে কোনোরকমে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতো ।এই মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের বিভিন্ন দিক ধরা পড়েছে। প্রথম মৃত্যুর দৃশ্য দেখার পর তার চরিত্রের কতগুলি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন-

আবেগপ্রবণঃ- মৃত্যুঞ্জয়ের আবেগ ও অনুভূতি প্রবল ছিল। তাই হঠাৎ মৃত্যুর দৃশ্য দেখে সে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট অনুভব করে। এরূপ কষ্টের কারণে তার স্বাভাবিক জীবন ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে ।গল্পের শেষে দেখা যায় সেও বুভুক্ষু মানুষের মতো বলে-" গা থেকে এইচি, খেতে পাইনে বাবা, আমায় খেতে দাও।" অর্থাৎ নিজের জীবন দিয়ে ক্ষুদার্থ মানুষদের সে বাঁচাতে চেয়েছিল।

অনুশোচনা বোধঃ- অনাহারে মৃত্যুর জন্য মৃত্যুঞ্জয় নিজেকে অপরাধী বলে ভাবতে থাকে। এই আত্মসমালোচনা থেকেই সে এক বেলা ভাত খাওয়া কমিয়ে দেয়। এমনকি নিজের অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য অফিস যাওয়া প্রায় ছেড়ে দিয়ে ফুটপাতে ঘুরে বেড়ায়।

দায়িত্ব অবহেলাঃ- মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি অবহেলা করা। এ কারণে মৃত্যুঞ্জয় ধীরে ধীরে অফিসারের দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলা করে অনাহারীদের ভিড়ে মিশে যায় ।যার পরিণতিতে তার মানসিক বিকৃতি ঘটে। ফলে অফিসের কথা, সংসারের কথা, বউ ছেলেমেয়েদের কথা ভুলে গিয়ে কেবল ফুটপাতবাসীদের কথা ভাবতে থাকে।

মনুষ্যত্ববোধঃ- মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার মনুষত্ববোধ আছে। কলকাতার মধ্যবিত্ত নাগরিকদের মতো স্বার্থপর হয়ে বেঁচে থাকতে পারেনি সে। ছুটে গিয়েছে ক্ষুধার্থ মানুষদের পাশে। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় মনুষ্যত্ববোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে ।এই সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রটিকে প্রধান চরিত্রের মর্যাদা দিয়েছে।


2. "ওটা পাশবিক স্বার্থপরতা"- কে কাকে কোন প্রসঙ্গে এ উক্তি করেছেন ?উদ্ধৃত অংশে তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।


                      ****উত্তর***


উত্তরের প্রথম অংশঃ- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কে বাঁচায় কে বাঁচে' গল্পে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চাকুরীজীবী মৃত্যুঞ্জয় অনাহারে মৃত্যুর দৃশ্য দেখে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সে চাকরি ও সংসারকে অবহেলা করে অন্য মানুষের সেবা করতে চেয়েছে। সহকর্মী নিখিল তাকে নানাভাবে বোঝাতে থাকে এবং বলে "সমাজ ধর্মের দিক থেকে বিচার করলে দশ জনকে খুন করার চেয়ে নিজেকে না খাইয়ে মারা বড় পাপ।" নিখিলের এ মন্তব্য শুনে মৃত্যুঞ্জয় উদ্ধৃত উক্তিটি করেছেন।


উত্তর এর দ্বিতীয় অংশঃ- মৃত্যুঞ্জয় নিরীহ, শান্ত, দরদী ও ভালো মানুষ। তাই সে অনাহারে মৃত্যুর জন্য নিজেকে অপরাধী মনে করে এবং প্রায়শ্চিত্তের জন্য সমস্ত মাইনে ও খাদ্য বিলিয়ে দিতে চেয়েছে । কিন্তু নিখিল কিছুতেই মৃত্যুঞ্জয়ের এরূপ কাজকে সমর্থন করেনি। সে মৃত্যুঞ্জয়কে বলেছে ভুরিভোজনটা অন্যায়। তবে না খেয়ে মারা উচিত নয়। নিখিল আরো বলেছে বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু খাদ্য প্রয়োজন তা কাউকে না দিয়ে নিজেই তা খাবে।তবে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা তার মতে অন্যায়।জনকল্যাণের জন্য যতটা সম্ভব খাওয়া কমিয়ে দেওয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করে নিখিল। নিখিলের এরূপ পাশবিক স্বার্থপরতার পরিচয় পেয়ে মৃত্যুঞ্জয় বলে "তুই পাগল নিখিল। বদ্ধ পাগল।" অর্থাৎ নিখিলের চুক্তি প্রসঙ্গে এরূপ মন্তব্য করে মৃত্যুঞ্জয়।


গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের যে ট্রাজেডি কোনো কাহিনী বা ঘটনা নয়।শুধু চরিত্রের মানবিক ভাবনার কারণে এরূপ পরিণতি ঘটে। তার মানবতাবাদী ভাবনার একটি বড় দিক হলো সে যুক্তিবাদী হলেও আদর্শবাদ ও সংবেদনশীলতা তার মধ্যে প্রধান। তার যুক্তি এতটাই অর্থপূর্ণ ও জোড়ালো যে, তা তার পরিবার পরিজনদের কাছে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃত্যুঞ্জয়ের মনে হয়েছে সামাজিক দায়িত্ব পালনের জন্য সে অনায়াসে পারিবারিক দায়িত্ব বিসর্জন দিতে পারবে। শুধু লক্ষ লক্ষ ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের বাঁচানো একমাত্র কর্তব্য।


মৃত্যুঞ্জয় ক্ষুদার্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর কথা নিখিলকে জানালে নিখিল তা সমর্থন করে। কিন্তু নিখিল জানায় নিজে না খেয়ে অন্যকে খাওয়ানোটা শুধু নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে অপরকে বাঁচানো। নিখিল আরো জানায় এভাবে দেশের মানুষকে বাঁচানো যায় না। নিজেকে না খাওয়ানো দশ জনকে খুন করার চেয়েও বড় পাপ। নিখিলের যুক্তির উপরেই মৃত্যুঞ্জয় জানায়" ওটা পাশবিক স্বার্থপরতা"- অর্থাৎ সৎ সরল ও দরদী হওয়ায় মৃত্যুঞ্জয় নিখিলের মত স্বার্থপর হয়ে বেঁচে থাকতে চায়নি।




3. "মৃত্যুঞ্জয়ের সুস্থ শরীরটা অসুস্থ হয়ে গেল"- মৃত্যুঞ্জয় কেন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল? শেষপর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয়ের কী পরিনতি লক্ষ করা যায়?


                              ***উত্তর***

উৎসঃ-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সংগ্রামী জীবনের রূপকার ছিলেন। তাই তিনি রোমান্টিকতার বিরোধিতা করে বাস্তবকে নিয়ে গল্প লিখেছিলেন ।আলোচ্য মন্তব্যটি তার "কে বাঁচায় কে বাঁচে" গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত। এখানে গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।


অসুস্থতার কারণঃ- মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়ার পথে অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা দেখে অফিসে পৌঁছে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। দুর্ভিক্ষের সময় এমন দৃশ্য দেখাতে কলকাতায় স্বাভাবিক ঘটনা ছিল। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় এমন ঘটনার কথা আগে শুনে থাকলেও স্বচক্ষে কখনোই দেখায়নি। তাই অনাহারে মানুষ যে মারা যেতে পারে তা সে মন থেকে মেনে নিতে পারছিল না। এতদিন সে চার বেলা খেয়ে যে অন্যায় করেছে সে অন্যায়ের কারণে মনে তার পাপবোধ জন্মায়। এই মৃত্যু তার মনে ভীষণ ভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। ফলে মৃত্যুঞ্জয়ের সুস্থ শরীরটা অসুস্থ হয়ে যায়।


মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবর্তনঃ- এই ঘটনার পর মৃত্যুঞ্জয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় দিনদিন মৃত্যুঞ্জয় অফিসের কাজে অমনোযোগী হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে অফিস যাওয়া বন্ধ করেছে ফুটপাথে ঘুরে বেড়ায়। ক্ষুধার্ত মানুষের ভিড়ে মিশে যায় লোকের কথায়- " শহরে আদি-অন্ত হিন ফুটপাত ধরে সে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়। ... কেমন করে সব ওলটপালট হয়ে গেল।" সবকিছু বুঝেও মৃত্যুঞ্জয় কিছু করতে না পারার অক্ষমতার জন্য নিজেকে বদলে দেয় । শেষ পর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়া ছেড়ে দেয় বাড়ি ফেরা ভুলে যায় ক্ষুধার্ত মানুষের দলে মিশে যায়। সে তার দাড়ি ভরা মুখ খালি গা ছেড়া ন্যাকড়া পড়ে মৃত্যুঞ্জয় লঙ্গরখানার লাইনে দাঁড়িয়ে কাড়াকাড়ি মারামারি করে খিচুড়ি খায়।


মৃত্যুঞ্জয়ের মানসিক বিকারঃ- মানবিক মূল্যবোধ মৃত্যুঞ্জয়ের মধ্যে অতিরিক্ত থাকায় শেষ পর্যন্ত সে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়। সময়ের সাথে সাথে সমাজ ও পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলেও মৃত্যুঞ্জয়ের মনের পরিবর্তন ঘটেনি ।তার চাপ সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুঞ্জয়ের মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়। এ কারণে মৃত্যুঞ্জয় হাতে বাটি নিয়ে বলে-: গা থেকে এইচি খেতে পাইনি বাবা আমায় খেতে দাও।"অর্থাৎ  মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ পরিণতি পাঠকের হৃদয় কে আদ্র করে তোলে।


4. "কারো বুকে নালিশ নেই, কারো মনে প্রতিবাদ নেই !"- কার মধ্যে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল? কোন পরিস্থিতিতে বক্তা এমন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিল?


                 **** উত্তর ***


উত্তরের প্রথম অংশঃ- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত "কে বাঁচায় কে বাঁচে" রচনা থেকে উদ্ধৃত উক্তিটি নেওয়া হয়েছে। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের মৃত্যু দেখে মৃত্যুঞ্জয় বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সে প্রথম প্রথম এই দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের সঙ্গে কথা বলতো। কিন্তু মৃত্যুঞ্জয় লক্ষ করেছে তাদের মুখে কোনো নালিশ বা প্রতিবাদ নেই। এই অনাহারী মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের দুর্দশা দেখে মৃত্যুঞ্জয়ের এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল।


উত্তর এর দ্বিতীয় অংশঃ- "কে বাঁচায় কে বাঁচে" গল্পের প্রধান চরিত্র মৃত্যুঞ্জয় অফিস যাওয়ার পথে প্রথম মৃত্যুর দৃশ্য দেখে। মৃত্যুঞ্জয় অনাহারে নাখেয়ে থাকা মানুষের জন্য দিনরাত ভেবেছে। সে নিজেকে তাদের এরূপ অবস্থার জন্য দায়ী মনে করে ভাবতে থাকে যে কিছুই কি করা যায় না তাদের জন্য। অবশেষে এক বেলা খাওয়া ছেড়ে দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। এমনকি অফিসের বেতন সে রিলিফ ফান্ডে দিয়েছে। তবে এরূপ সহযোগিতা দিয়েই সে থেমে থাকেনি। সে দিনের পর দিন অফিস কামাই করেছে। লেখকের কথায়- " শহরের আদি-অন্তহীন ফুটপাত ধরে সে ঘুরে ঘুরে বেড়ায়।... পাড়ায় পাড়ায় লঙ্গরখানা খুঁজে বার করে অন্য প্রার্থীদের ভিড় দেখে।"

মৃত্যুঞ্জয় ক্ষুধার্ত মানুষের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়েছে।যে মানুষগুলোর জন্য তার অফিস কামাই করে এত দূরে ছুটে আসা, সেই মানুষগুলো যেন একই ভাষায় কথা বলে। একই সুরে দুঃখের কথা শোনায়, এদের কথা বোঝাতে গিয়ে আলোচ্য উক্তিটি গৃহীত হয়েছে।

উক্তিটির তাৎপর্যঃ- ক্ষুধিত মানুষগুলো নিজেদের কণ্ঠস্বর হারিয়েছে। এদের নিজস্ব কোন ভাষা নেই। এরা সকলেই এক কথা বলে। সেই একঘেয়ে ও একরঙা । এরা কোনো প্রতিবাদ করেনা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলে না। নিজেদের এরূপ পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেদের ভাগ্যকে দায়ী করে। অর্থাৎ এরা ভাবে যে তারা পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। আর এজন্যই এই উক্তিটির আলাদা একটি মাত্রা রয়েছে।


মৃত্যুঞ্জয় ক্ষুদার্থ মানুষদের সহযোগিতা করতে গিয়ে সর্বস্ব দান করেছে। নিজের অফিস ও পরিবারের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে অবহেলা করেছে।অফিস ও বাড়ীঘর ভুলে গিয়ে সে ফুটপাতে পড়ে থাকা ক্ষুদার্থ মানুষদের সঙ্গে কথা বলে। কথা বলতে গিয়েই সে এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল।


5. " মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থা শোচনীয়" মৃত্যুঞ্জয় কে? তার বাড়ির অবস্থা শোচনীয় কেন?


               ***** উত্তর *****


মৃত্যুঞ্জয় এর পরিচয়ঃ- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের "কে বাঁচায় কে বাঁচে" গল্পের মৃত্যুঞ্জয় হল কেন্দ্রীয় চরিত্র।যে আদর্শবাদী, সহানুভূতিশীল, সৎ ও সরল প্রকৃতির মানুষ।


মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থাঃ- মন্বন্তরপিড়িত কলকাতা শহরের বুকে এক ফুটপাতবাসীর মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে অফিসযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়। জীবনে প্রথমবার এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়ে সে নিজেকে সামলাতে পারেনি। ঘটনার নিষ্ঠুরতা তার শরীর ও মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। মনে জাগে সীমাহীন প্রশ্ন। বিবেকের তাড়নায় দগ্ধ হতে থাকে। খুঁজে ফিরতে থাকে প্রায়শ্চিত্তের পথ।অচিরে তা পেয়েও যায়। সমস্ত  জাগতিক স্বাচ্ছন্দকে অগ্রাহ্য করে দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের মাঝে নিজেকে মিশিয়ে দেয়।

■ সমস্ত সাংসারিক দায়িত্বকে প্রায় এক প্রকার অস্বীকার করে মৃত্যুঞ্জয় নিজের মাইনের সমস্ত টাকাটা রিলিফ ফান্ডে দেবার আশায় নিখিলের দ্বারস্থ হয়। অথচ মাইনের পুরো টাকাতেও তার সংসার চলে না। বাড়িতে নয়জন লোক। স্ত্রী শয্যাশায়ী। ক্ষুধার তাড়নায় তার বাচ্চারা অহরহ কাঁদতে থাকে।


নির্বিকার মৃত্যুঞ্জয় শহরের ফুটপাতে লঙ্গরখানা ঘুরে খুঁজে ফেরে। নিরন্ন মানুষের যন্ত্রণার কারণ সবকিছুই বোঝে উঠে ও কিছু না করতে পারার অক্ষমতায তাকে সব সময় পীড়া দেয়। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি মৃত্যুঞ্জয় অফিসে যায় না ফলে খুব সঙ্গত কারণেই দীর্ঘ অফিস কামাই করায় মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে।


আরো পড়ো....





Post a Comment

0 Comments